রবিবার ৩০ নভেম্বর ২০২৫ - ১২:১৩
‘সৎকর্মের আদেশ ও অসৎকর্ম থেকে নিষেধ’—সমাজের সার্বজনীন সংস্কৃতিতে পরিণত হওয়া প্রয়োজন

ইরানের গোলেস্তান প্রদেশে ধর্মীয়-সামাজিক মূল্যবোধের বিকাশ ও সামাজিক দায়িত্ববোধ জোরদারের উদ্দেশ্যে ‘মুফলিহুন’ শীর্ষক উৎসব ব্যাপক উৎসাহ ও অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে। উৎসবটির মূল লক্ষ্য ছিল সমাজে আমর বিল মা’রূফ ও নাহি আনিল মুনকার—অর্থাৎ সৎকর্মে উৎসাহিত করা ও অসৎকর্ম থেকে বিরত রাখার মূল্যবোধ—কে প্রচার ও প্রসারিত করা। পাশাপাশি কর্মসংস্থান, আবাসন, উৎপাদন বৃদ্ধি এবং পারিবারিক ভিত্তি শক্তিশালীকরণের মতো জাতীয় অগ্রাধিকারের ক্ষেত্রগুলোতেও জনগণের ভাবনা ও অংশগ্রহণকে উৎসাহিত করা।

হাওজা নিউজ এজেন্সি’র গোরগান প্রতিনিধি জানায়, বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন, শিক্ষার্থী, তরুণ প্রজন্ম ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান এই উৎসবে অংশ নেয়। আয়োজকদের মতে, বৈচিত্র্যময় সাংগঠনিক কার্যক্রমের পাশাপাশি আলোচনা সভা ও মূল্যবোধভিত্তিক কর্মশালার মাধ্যমে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে নৈতিক দায়িত্ববোধ জাগ্রত করা ছিল উৎসবের অন্যতম উদ্দেশ্য।

উৎসবের প্রধান বক্তা ও গোলেস্তানে ওয়ালিয়ে ফাকিহর প্রতিনিধি আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ কাজেম নূরমুফিদি তাঁর বক্তব্যে আমর বিল মা’রূফ ও নাহি আনিল মুনকারের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, “এই ফারজিয়াহর ক্ষেত্র কখনও সঙ্কুচিত করা যাবে না।”

তিনি ব্যাখ্যা করেন—
• এটি কোনো নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর দায়িত্ব নয়,
• কিংবা দিনে দিনে কেবল আনুষ্ঠানিক ও প্রদর্শনমূলক কার্যক্রমে সীমাবদ্ধ হয়ে যাওয়ার বিষয়ও নয়।

বরং এটি এমন একটি দায়িত্ব যা— পরিবার থেকে সমাজের সর্বস্তর পর্যন্ত—প্রত্যেকের সামর্থ্য, অবস্থান ও প্রভাব অনুযায়ী পালন করা উচিত।

আয়াতুল্লাহ নূরমুফিদি পরিষ্কারভাবে বলেন,
“আমর বিল মা’রূফকে একটি জীবন্ত ও সামগ্রিক সামাজিক সংস্কৃতিতে পরিণত করতে হবে, যাতে মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে সৎকর্মকে সমর্থন করে এবং অসৎকর্মকে নিরুৎসাহিত করে।”

তিনি আচরণগত সামঞ্জস্যের প্রসঙ্গে বিশেষভাবে উল্লেখ করে বলেন— “যদি আমাদের কথা সৎকর্মের প্রচার করে, তবে আমাদের আচরণও সে অনুযায়ী হতে হবে।”

তার মতে, দাওয়াহ বা নৈতিক শিক্ষা তখনই প্রভাবশালী হয়, যখন প্রচারকের কথার সাথে বাস্তব আচরণ মিল থাকে। অন্যথায় কথার প্রভাব দুর্বল হয়ে যায় এবং সমাজে সংশয় সৃষ্টি হয়।

উৎসব আয়োজকদের মতে, বর্তমান সমাজব্যবস্থায় মূল্যবোধভিত্তিক সচেতনতা বৃদ্ধি এবং পরিবার ও তরুণদের নৈতিক ও সামাজিক শক্তিশালীকরণ একটি জরুরি চাহিদা। এই কারণেই উৎসবে কর্মসংস্থান, আবাসন, পরিবার সুরক্ষা, শিল্প-উৎপাদন বৃদ্ধি এবং সামাজিক ন্যায়–নীতি সংক্রান্ত বিষয়গুলোও গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরা হয়।

বক্তারা মনে করিয়ে দেন—
• পরিবার হচ্ছে সমাজ গঠনের প্রথম ও সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি।
• পরিবারকে শক্তিশালী না করলে কোনো সমাজই দীর্ঘমেয়াদে টেকসই অগ্রগতি অর্জন করতে পারে না।
• তাই ধর্মীয় মূল্যবোধ, সামাজিক দায়িত্ববোধ এবং অর্থনৈতিক শক্তিমত্তা—এই তিনটি ক্ষেত্রকে সমন্বিত করে কাজ করতে হবে।

অনুষ্ঠানের শেষে আয়োজকেরা আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে— ‘মুফলিহুন’ উৎসব কেবল একটি অনুষ্ঠানেই সীমাবদ্ধ থাকবে না; বরং এটি সমাজে আমর বিল মা’রূফ ও নাহি আনিল মুনকারকে এক ধারাবাহিক, বাস্তবমুখী ও জনগণনির্ভর সংস্কৃতিতে রূপ দিতে সহায়ক হবে।

আপনার কমেন্ট

You are replying to: .
captcha